এআই চ্যাটবট ব্যবহারে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ। ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কাজে চ্যাটবট ব্যবহারের সময় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনাইয়ের মতো এআই চ্যাটবট। লেখালেখি কিংবা কোডিংয়ের কাজ সহজ করতে এসব টুল ব্যবহার করছেন অনেকেই। তবে গত কয়েক মাসে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। অনেক ব্যবহারকারী না বুঝে তাদের অফিসের সংবেদনশীল নথিপত্র বা ব্যক্তিগত তথ্য এআই মডেলে ইনপুট হিসেবে দিয়ে ফেলছেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি যখন কোনো এআই টুলে তথ্য প্রদান করেন, তখন সেই তথ্যগুলো মডেলটিকে আরও প্রশিক্ষিত করতে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে আপনার দেওয়া তথ্য অন্য কোনো ব্যবহারকারীর কাছে উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে যেসব স্টার্টআপ বা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসায়িক কৌশল এআই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করছেন, তারা বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন।
বাংলাদেশেও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তারা এখন কাজের গতি বাড়াতে বিভিন্ন এআই টুল বেছে নিচ্ছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে ডেটা সুরক্ষা আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো কিছু ইনপুট দেওয়ার আগে তা ব্যক্তিগত বা গোপনীয় কি না, সেটি যাচাই করে নেওয়া জরুরি। পাবলিক এআই মডেলের পরিবর্তে কোম্পানিগুলো নিজস্ব বা লোকাল সার্ভারভিত্তিক এআই ব্যবহারের দিকে ঝুঁকতে পারে ভবিষ্যতে।
নিরাপদ থাকতে চাইলে এআই চ্যাটবটের সেটিংস থেকে হিস্ট্রি বা ট্রেইনিং অপশন বন্ধ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সেই সঙ্গে অপরিচিত বা আনভেরিফাইড কোনো এআই এক্সটেনশন ব্রাউজারে ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন। প্রযুক্তি সব সময় মানুষের সুবিধার্থে তৈরি হয়, কিন্তু তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব ব্যবহারকারীর নিজের হাতেই থাকে।
1 views
Comments (0)
Sign in to leave a comment.
Loading comments…